মোঃ আনোয়ার হোসেনঃ
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের প্রবেশমুখে অবস্থিত ঐতিহাসিক লোহার ব্রিজ একসময় এলাকাবাসীর গর্ব ও ভরসার প্রতীক ছিল। ২০০৩ সালে নির্মিত এই সেতুটি পুরান ঢাকা ও কামরাঙ্গীরচরের মানুষের জন্য যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছিল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, রিকশা, ভ্যান ও ছোট যানবাহন এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ সেই ব্রিজটি হয়ে পড়েছে বড্ড ক্লান্ত ও জীর্ণ।
কামরাঙ্গীরচরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৩ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। পুরো কাঠামোটি লোহার তৈরি হওয়ায় স্থানীয়রা একে "লোহার ব্রিজ" নামেই ডাকতে শুরু করে। শুরুতে এটি ছিল এলাকার উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার এক অনন্য প্রতীক। কিন্তু প্রায় দুই দশকের ব্যবহারে ব্রিজটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। প্লেটগুলো ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগে। এখন শুধু পথচারী ও হালকা যানবাহনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
ব্রিজের ভগ্নদশার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকাবাসী। গর্তে আটকে রিকশা উল্টে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এখন আতঙ্কের নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
লোহার ব্রিজের পাশে ইতোমধ্যে একটি নতুন কংক্রিটের ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। ফলে মূল সড়ক যোগাযোগ কিছুটা সহজ হয়েছে। তবে পুরনো লোহার ব্রিজটি অযত্ন-অবহেলায় আজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এলাকার প্রবীণরা মনে করেন, এই ব্রিজ শুধু একটি যাতায়াত মাধ্যম নয়, বরং এটি ছিল এক সময়কার উন্নয়ন ও স্বপ্নের প্রতীক।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “লোহার ব্রিজ আমাদের ইতিহাস। এটি সংস্কার বা সংরক্ষণ করা গেলে আগামী প্রজন্মও আমাদের এই স্মৃতিকে জানতে পারবে। অথচ এখন এটি ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
২০০৩ সালে যে সেতুটি মানুষের জীবনে স্বপ্নের আলো জ্বালিয়েছিল, আজ সেই সেতুই দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নদশার করুণ চিত্র হয়ে। দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণ না করলে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা কামরাঙ্গীরচরের লোহার ব্রিজ হয়তো অচিরেই হারিয়ে যাবে সময়ের গহ্বরে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাকির হোসেন (মনু)
01712-364264
zakirhossain215@gmail.com
D NRWS