মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল, নওগাঁঃ
নওগাঁঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে বিএনপি’র মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন।
ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন নওগাঁ-১ (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর): মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা): শামসুজ্জোহা খান জোহা, নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী): ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ (মান্দা): ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ (সদর): [এখনও ঘোষণা হয়নি], নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর): শেখ মুহাম্মদ রেজাউল ইসলাম।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিচ্ছে। নওগাঁসহ সারা দেশে যোগ্য, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বাকি আসনগুলোর প্রার্থীদের নাম আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য নওগাঁ জেলা বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমে প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন খুব শিগগিরই।
নওগাঁ-১ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান মনোনয়ন দিলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ২০১৮ সালের জ্বালা এখনো ভোটারদের হৃদয়ে ক্ষোভ হিসেবে বিরাজমান। সেদিন যারা ভোট দিতে পারেননি, আজ তারা আরো দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং সংসদে পাঠাবেন। ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক। মোস্তাফিজুর রহমান সেই প্রতীকের একজন পরীক্ষিত যোদ্ধা। তার ব্যক্তিত্ব, সুনাম, মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা এবং ত্যাগ আজও জনগণের মাঝে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। নওগাঁ-১ আসনের জনগণ এখনো স্মরণ করে সেই রাত্রি (২০১৮ সালের নির্বাচন), যেখানে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময় বদলেছে, মানুষ এখন আরও সচেতন, আরও সাহসী। অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তারা এবার ভোট দেবেন স্বাধীনতার পক্ষের, গণতন্ত্রের পক্ষে, মানুষের প্রতিনিধির পক্ষে। সেই প্রতিনিধি হচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান যিনি কখনো হারেননি, শুধু অপেক্ষা করছেন সঠিক সময়ের এমন মন্তব্য হাজারো মানুষের।নওগাঁ -১ আসনে গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২ হাজার ৬০৮ জন। এর মধ্যে সাধন চন্দ্র মজুমদার ১ ৮৭ ২৯০ ভোট পান ও নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান পান ১ ৪২০৫৬ ভোট পান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নওগাঁ-১ এ ৪.৬৯.১৫৭ ভোটা পেয়েছেন।
নওগাঁ-২ আসনটি জাতীয় সংসদের ৪৭ নম্বর নির্বাচনি এলাকা। জেলার ধামইরহাট ও পত্নীতলা উপজেলা ভারতীয় সীমানাঘেঁষা। আসনটি প্রাচীন নিদর্শনে ভরপুর। ধামইরহাটে রয়েছে জাতীয় উদ্যান আলতাদীঘি-শালবন, মুসলিম নিদর্শন মাহী সন্তোষ (মুসলিম শাসকের টাকশাল ছিল), ভীমের পান্টি (গুরুর স্তম্ভ), জগদ্দল পদ্ম মহাবিহার, আগ্রাদ্বীগুণ মহাবিহার। পত্নীতলায় রয়েছে দিবর দীঘি ও দিব্যক জয়স্তম্ভসহ নানা নিদর্শন। পত্নীতলার বিশুদ্ধ চিনামাটির খনি ঘিরেও শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। সাবেক এমপি শামসুজ্জোহা খানের কারণে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় এই আসনে বিএনপির পরাজয় হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা বিএনপি। সাবেক এমপি মো. শামসুজ্জোহা খানের নেতৃত্বে এ আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে দলীয় মনোনয়ন মো. সামসুজ্জোহা খান ।
নওগাঁ -৩ আসনে ফজলে হুদা বাবুল বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল বিএনপির যখন দুঃসময়, তখন এর অনেক নেতা-কর্মীই নানা ধরনের সংকটের মধ্যে পড়েন। মামলা-হামলার শিকার হয়ে অনেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দূরে সরে যান। কিন্তু নওগাঁ-৩ (বদলগাছি ও মহাদেবপুর) আসনে চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। এখানে বিএনপির একজন নেতা তাঁর কর্মীদের পাশে থেকে তাঁদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছেন। তিনি হলেন নওগাঁ-৩ (বদলগাছী-মহাদেবপুর) আসনের ফজলে হুদা বাবুল। যিনি শুরু থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শে রাজনীতি করে আসছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময়ে যখন বিএনপি ক্ষমতা থেকে দূরে, তখন এ আসনের অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অসংখ্য রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয়। তাঁরা আইনি জটিলতায় পড়েন এবং আর্থিক সংকটে জর্জরিত হন। এমন সময়ে, ফজলে হুদা বাবুল ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তিনি কেবল আইনি সহায়তা বা জামিনের ব্যবস্থা করেননি, বরং নিয়মিত তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করে।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. ইকরামুল বারী টিপু । নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নাম ঘোষণা করায় তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নেতা কর্ম রা বলেন সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও তৃণমূলে জনপ্রিয় ব্যক্তি ডা. ইকরামুল বারী টিপু। তাঁকে মনোনয়ন দিলে এখান থেকে শতভাগ বিজয় নিশ্চিত। ডা. ইকরামুল বারী টিপু ৩২ বছর ধরে মান্দা উপজেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি তৃণমূলের নেতা, শিক্ষক, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তি। তাঁর নেতৃত্বে মান্দায় বিএনপি আজ ঐক্যবদ্ধ।
নওগাঁ -৬ সংসদীয় আসন ৫১ এর জনতার এমপি এবং শান্তির দূত খ্যাত রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম রেজু। রাজনৈতিক ইতিহাসে নওগাঁ -৬ আসন সবসময় আলোচিত অবস্থানে থাকে। এখানে ভোট যুদ্ধ মানেই সমীকরণ, নতুন সম্ভাবনা আর নতুন ঘটনা প্রবাহের জন্ম। সেই ধারাবাহিকতায় আসনটি এখন স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনিত হয়েছে। আর এই আসনটিতে জনপ্রিয়তায় বিএনপির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নেতা নওগাঁ জেলা বিএনপি র সাবেক সফল আহ্বায়ক আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি নওগাঁ -৬ আসনে বিগত উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক প্রাপ্ত বিএনপি নেতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের প্রতীক। জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্ব শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম রেজু তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায়ে রাজনীতি তে তার অবদান রয়েছে বেশ। শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম রেজু র রাজনৈতিক জীবন শুরু ছাত্র রাজনীতি থেকে। তিনি শুধু একজন কর্মী ছিলেন না বরং নওগাঁ -৬ আত্রাই রাণীনগর জনপদে সংগঠন কে শক্তিশালী করার দ্বায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। আত্রাই রাণীনগর জনপদে তার হাত ধরে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পেয়েছে নতুন প্রাণ শক্তি এবং সংগঠনের প্রতি আস্থা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাকির হোসেন (মনু)
01712-364264
zakirhossain215@gmail.com
D NRWS