
হুমায়ন আকাশ, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ ছয় বছর আগে চাটখিল উপজেলায় একটি নাম ভেসে আসে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা, যিনি দীর্ঘ ২৭ বছর সুদূর ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন। নোয়াখালী জেলা আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলী আজম খোকার সুযোগ্য কন্যা তিনি। ইংল্যান্ডে বসবাস করলেও পিতৃ টানে নোয়াখালী জেলা সহ দেশের মানুষকে তিনি ভুলেন নাই। মানবতার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন মমতাময়ী এই নারী। তার বিষয় লিখতে গেলে লেখার গণ্ডিতে শেষ করা যাবেনা, অনামিকা আজমরা বেঁচে থাকুক যুগ যুগ যুগান্তরে। অনামিকা আজমের ফেসবুক ওয়াল থেকে একটি শিরোনাম পড়ে অনেকটাই মুগ্ধ আমরা ,তিনি প্রতিটি সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন , এবং বিভিন্ন সময় তরুণ তরুণীদের সৎ উপদেশ দিয়ে থাকেন, জীবনের দৌড় শেষ হয় না, জীবন এক অদ্ভুত দৌড়। কেউ শুরু করে জুতাসহ, কেউ খালি পায়ে। কেউ জন্ম থেকেই একশো মিটার এগিয়ে থাকে, আবার কেউ হাঁটার আগেই হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। সময়ের সাথে আপনি বুঝতে পারবেন, এই দৌড়ের নিয়ম গুলো কখনোই সবার জন্য একরকম নয়।
আপনি হয়তো দেখবেন, কেউ সহজেই সব শিখে নেয়, পরীক্ষার আগের রাতে কয়েক ঘণ্টা পড়েই অসাধারণ ফলাফল করে। আর আপনি দিনের পর দিন খেটে গেলেও কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট পাচ্ছেন না।
আপনার আশেপাশে এমন অনেক মানুষ থাকবে, যাদের জীবন কোনো বাধাবিহীন রাস্তায় চলতে থাকে। তাদের কখনো টাকার চিন্তা করতে হয় না, বাবা-মায়ের দেওয়া ক্রেডিট কার্ডে বিল মেটায়। আর আপনি একবার টিউশন ফি চাওয়ার আগে কতবার চিন্তা করবেন, সেটার কোনো হিসাব নেই।জীবনের এই খেলা কেউ একদিনেই জিতে যায়, আর কেউ বছরের পর বছর খেলে করেও বোর্ডে নাম লিখাতে পারে না। কেউ একটা স্টার্টআপ শুরু করেই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যায়, আর কেউ দশটা উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়ে লোনের বোঝা টানতে টানতে হারিয়ে যায়।
কখনো এমন হবে, আপনি দেখবেন আপনার চেয়ে কম দক্ষ, কম পরিশ্রমী কেউ আপনার স্বপ্নের চাকরিটা পেয়ে গেছে। কারণ হয়তো সে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ছিল, হয়তো তার রেফারেন্স ছিল, হয়তো ভাগ্য তার পক্ষে ছিল। এসব ভেবে হয়তো আপনার নিজের ওপর রাগ হবে, জীবনকে অন্যায় মনে হবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই প্রতিযোগিতায় আপনি যদি শুধুই তুলনায় ব্যস্ত থাকেন, তাহলে ক্লান্তি ছাড়া আর কিছুই পাবেন না। এখানে কেউ একটা গাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখে, আরেকজন সেই গাড়িটা বদলে আরও দামি কিছু চায়। বড় ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া মানুষেরও স্বপ্ন থাকে আরও বড় কিছুর।
তাহলে উপায় কী?
উপায় হলো নিজের লেন ঠিক করা। এই দৌড় কারও জন্য নয়, আপনার নিজের জন্য। অন্যের জীবনের দিকে না তাকিয়ে, নিজের গতিতে এগিয়ে যাওয়া। জীবন সবসময় ফেয়ার হবে না, কিন্তু আপনি নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন—সময়ের সাথে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন।
কারণ, সত্যিকারের জয়ী হওয়ার জন্য গন্তব্যে পৌঁছানো দরকার নেই। দরকার শুধু এক পা এক পা করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
Leave a Reply