
বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মনঃ
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় এবং তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ সংরক্ষণের প্রত্যয় নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (BSP) যা বর্তমানে দেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের একমাত্র নিবেদিত রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত।
দলের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সনাতনী জনগোষ্ঠী নানাবিধ বৈষম্য, সহিংসতা ও উপেক্ষার শিকার হয়ে আসছে। জাতীয় রাজনীতিতে তাদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম না থাকায়, বাস্তব চাহিদা ও অধিকারের প্রশ্নগুলো বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। সেই অভাব পূরণ করতেই গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি।
দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
বাংলাদেশ সনাতন পার্টির মূল লক্ষ্য হলো—সনাতনী সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিরোধ গড়ে তোলা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে সংখ্যালঘুদের অধিকার সুসংহত করা।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, “আমরা রাজনীতিতে শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলে সরকার এবং প্রশাসনের কাছে সনাতনী সম্প্রদায়ের বক্তব্য পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের সন্তানরা যাতে ভয়ের মধ্যে না বেড়ে উঠে, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
বাংলাদেশ সনাতন পার্টি ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে। শিক্ষিত ও তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে দলটি একটি ঐক্যবদ্ধ, সচেতন ও দাবি আদায়ের উপযোগী কমিউনিটি গড়ে তুলতে কাজ করছে।
দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াও রয়েছে মহিলা ও যুব শাখা, যারা স্থানীয় পর্যায়ে সেবামূলক কার্যক্রম, ধর্মীয় উৎসব ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে।
দেশের মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে গিয়ে দলটিকে যেমন জনগণের সহানুভূতি পেয়েছে, তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কাছ থেকে নানা প্রতিরোধের মুখোমুখিও হতে হচ্ছে। তবুও বাংলাদেশ সনাতন পার্টি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে।
দলের মহাসচিব বলেন, “আমরা কোনও দল বা ধর্মের বিরোধিতা করি না। আমাদের আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক ধারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি—এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে, সেটাই প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি।” বাংলাদেশ সনাতন পার্টির উত্থান নিঃসন্দেহে সনাতনী সম্প্রদায়ের জন্য একটি নতুন আশার আলো। একটি স্বাধীন ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে থেকেও নিজেদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এই দলটি এখন অনেকের মনোযোগের কেন্দ্রে।
এই নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হবে তা সময়ই বলবে, তবে এ কথায় সন্দেহ নেই যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি ব্যতিক্রমী ও সাহসী পদক্ষেপ।
Leave a Reply