
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী লিপি বেগম মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত সোমবার ওয়ারী এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ১৩ লাখ টাকা মূল্যের হেরোইন ও ইয়াবাসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর চাকরি ও পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে।
জানা গেছে, লিপি বেগম মাস্টাররোলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে উদ্ধার করা মাদকের সঠিক পরিমাণ, গ্রেপ্তারের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তথ্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
লিপি বেগমের পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি, তাঁর ভাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফের সহযোগী তুষারের বিরুদ্ধে অতীতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
ওয়ারী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে লিপি বেগমের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে ছুটিতে থাকার কথা জানিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করেছেন ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। এমনকি কথোপকথনের শুরুতে লিপি বেগমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সে জেলে আছে হয়তো।’
একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তাঁর এমন বক্তব্য দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উদাসীনতার প্রশ্ন তুলেছে। ওয়ারী মাদকবিরোধী অভিযানে লিপি বেগমের গ্রেপ্তার এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে ওসির কাছ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওসি জানান, তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে একজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য ও তথ্যের অস্পষ্টতা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
মাদকবিরোধী অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য প্রত্যাশিত। এ অবস্থায় লিপি বেগমের গ্রেপ্তার, অভিযানের বিস্তারিত এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
Leave a Reply