
এম হোসাইন আহমদ,
প্রাণের মহানগর গ্রুপ ৯৭/৯৯-এর উদ্যোগে সি সেল পার্ক রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জে ২৮ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার স্মৃতি ও বন্ধুত্বে ভরপুর সোনালি দিনের বর্ণিল পুনর্মিলন, আবেগ এবং বন্ধুত্বের অনন্য সেতুবন্ধনে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো প্রাণের মহানগর গ্রুপ ৯৭/৯৯-এর পারিবারিক মিলনমেলা।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছয় শতাধিক বন্ধু একত্রিত হয়ে অংশ নেন এ আনন্দমুখর অনুষ্ঠানে। রূপগঞ্জের সি সেল পার্কে আয়োজিত দিনব্যাপী এই মিলনমেলা যেন বন্ধুদের ফিরিয়ে নেয় ৯৭ সালের সেই সোনালি শৈশব-কৈশোরের দিনে যে দিনগুলোতে ছিল একসাথে বেড়ে ওঠা, হাসিখুশি আড্ডা, আনন্দ আর অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বের সম্পর্ক।
বন্ধুত্বের বন্ধনকে পুনরায় দৃঢ় করতে এবং ব্যস্ততার মাঝেও একে অপরকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি করতে এ আয়োজন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ৯৭/৯৯ ব্যাচের সদস্যরা সাধারণত ব্যস্ততার কারণে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারেন না। ফলে এই মিলনমেলা হয়ে ওঠে সকলের পুনর্মিলনের এক বিরল সুযোগ। অনেকেই দীর্ঘ দিনের ব্যবধানের পর আবারও একে অপরকে দেখে আবেগাপ্লুত হন। স্মৃতির ঝাঁপি খুলে গল্পে মেতে ওঠেন সবাই।
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজন করেন মহানগর গ্রুপ ৯৭/৯৯-এর এডমিন প্যানেল ও আয়োজন-সংশ্লিষ্ট বন্ধুরা। এডমিন প্যানেলে ছিলেন মোঃ মোশারফ হোসেন, মোঃ আলমগীর হোসেন, মিয়ন কামরুল, মোঃ সুলতান আহমেদ, মোঃ সালাউদ্দিন চৌধুরী, মোঃ মাসুম, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ সোহেল, মোঃ হিরোন খান ও মোন্তাছিম বিল্লা। তাদের সমন্বয়, নেতৃত্ব এবং আন্তরিকতায় পুরো অনুষ্ঠানে তৈরি হয় শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।
আয়োজক কমিটিতে ছিলেন মোঃ সাহাদাত হোসেন, মোছাঃ শাহনাজ শিল্পী, কানিজ ফাতেমা, বাঁধন খন্দকার, মোঃ টিটু, মোঃ লিটন, মোঃ কায়সার আহমেদ ও মোঃ সালাম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে তারা অনুষ্ঠানের প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেন। অতিথি আপ্যায়ন, খাবারের পরিবেশনা, বিনোদন কার্যক্রম, যাতায়াতসহ পুরো আয়োজন জুড়ে তাদের নিষ্ঠা ছিল প্রশংসনীয়।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে রিজার্ভ বাসে করে অংশগ্রহণকারীদের অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা হয়। যাত্রাপথ থেকেই শুরু হয় বন্ধুদের আড্ডা, হাসাহাসি, গান আর স্মৃতিচারণ। সি সেল পার্কে পৌঁছে সারাদিনব্যাপী আনন্দ ও বিনোদনের মধ্য দিয়ে কাটে সময়। পার্কের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দলবেঁধে ঘুরে বেড়ান বন্ধুরা। কেউ ছবি তোলেন, কেউ স্মৃতির কথা বলেন, কেউবা হারিয়ে যান ৯৭ সালের সেই নির্ভার দিনের অনুভূতিতে। যেন একদিনের জন্য সবাই ফিরে গিয়েছিলেন তাদের শৈশব-কৈশোরে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল সকালের নাস্তা, দুপুরের বুফে খাবার, বিকেলের নাস্তা, রাতের ডিনারসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা। ছিল বেবি কফি আড্ডা, পার্কজুড়ে মুক্ত বিনোদন এবং একে অপরের সঙ্গে নতুন স্মৃতি তৈরির সুযোগ। সারাদিনের কর্মসূচিতে বন্ধুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসেই ফুটে উঠেছিল পুরনো দিনের সেই অকৃত্রিম বন্ধন।
অনুষ্ঠানে ৯৭/৯৯ ব্যাচের একাধিক গ্রুপের এডমিন ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সবার প্রতি ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যিনি নিজেও ৯৭ ব্যাচের বন্ধু, তার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান গ্রুপের সদস্যরা। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় তার সহযোগিতা অনবদ্য ছিল বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
দিনের শেষভাগে রেফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। তবে বন্ধুত্বের যে নতুন সেতুবন্ধ এই আয়োজন তৈরি করেছে, তা রয়ে গেছে সবার হৃদয়ে অমলিন হয়ে।
মহানগর গ্রুপ ৯৭/৯৯-এর সদস্যদের মতে, এই মিলনমেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ছিল স্মৃতিকে জীবন্ত করে তোলার এক অসাধারণ প্রয়াস। বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও আবেগের সমন্বয়ে গড়া এই আয়োজন আগামী দিনগুলোতে তাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
বন্ধুত্বকে কাছাকাছি আনা, দূরত্ব কমানো এবং সোনালি দিনের স্মৃতি নতুন করে উপলব্ধি করার এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।
Leave a Reply