
ডি জেড নিউজ ২৪ ডেস্কঃ
শুধু দীর্ঘ কারাবাসই নয়, প্রহসনের বিচারে তারা রীতিমতো মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন। তাদের মাথার উপরেই ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। তবে নিয়তির পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। এর পর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় আসে। আসে বহুল প্রতীক্ষিত সেই নির্বাচনের মাহেন্দ্রক্ষণ। স্বৈরাচারের কারাগার থেকে বেরিয়ে জনতার কাঠগড়ায় নেতারা দাঁড়ান। তবে কেউ কখনো নিরাশ হননি। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম।
লুৎফুজ্জামান বাবরঃ
২০০৪ সালের আওয়ামী লীগের সমাবেশে ঘটে একটি গ্রেনেড হামলার ঘটনা। এই ঘটনার সাথে জড়িত মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেফতার হন। এরপর তিনি একবারের জন্যও জামিন পাননি। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছেন, এবং পুলিশ দিয়ে প্রিজন ভ্যান থেকে নামার সময় তার মলিন মুখের দৃশ্যটি ছিল চিরচেনা। বাবর আর কখনো জেল থেকে মুক্তি পাবেন এমন ভাবনা ছিল সুদূরপরাহত। কিন্তু আজ সেটাই বাস্তব।
গত আগস্টে পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান বাবর। পরে, ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর তিনি ফিরে যান নিজের নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
আব্দুস সালাম পিন্টুঃ
বাবরের মতো আরও এক বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পিন্টুর দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবনের শেষ ঘটে। পরবর্তীতে তিনি ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলে। স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হয় এবং নির্বাচনে তিনি প্রায় ২ লাখ ভোটে বিজয়ী হন।
এটিএম আজহারুল ইসলামঃ
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামও বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকেও পরাজিত করেন। অথচ, আর কিছুদিন গেলেই হয়তো তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো।রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে পরিচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর, কয়েক বছর পর গ্রেফতার হন আজহার। ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক যুগ তিনি কারাবন্দি ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ মে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
Leave a Reply